তিন প্রান্তিক

আইপিডিসি ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ

ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসির চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) নিট মুনাফা বেড়েছে ৭৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।

ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসির চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) নিট মুনাফা বেড়েছে ৭৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২৬ কোটি ২০ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের সুদ আয় হয়েছে ৭১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬২৮ কোটি ৪ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির বিনিয়োগ আয় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তিন প্রান্তিকে আইপিডিসির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৭ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৭ পয়সায়।

আর্থিক ফলাফলের বিষয়ে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, ‘‌এ শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রমাণ করে, চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আইপিডিসি তার স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও কার্যক্রমে দক্ষতার কারণে আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং স্টেকহোল্ডাররা যাতে লাভবান হয় সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারছি।’

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৭৩ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ।

আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৪৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ১৯ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডোরদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৩৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৩৩ পয়সায়।

আইপিডিসি ফাইন্যান্সের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘‌ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসিঙ্গক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমের্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৮০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪০৯ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৪১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪০ কোটি ৯১ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০। এর ৪০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে ২১ দশমিক ৮৮, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৯ দশমিক ৭১, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও